
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সুলতানা আক্তার রত্না হত্যা মামলার রহস্য ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। একইসাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি মহাদেব রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ৩০ জুলাই সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দহলা খাগড়াবাড়ি মাঝপাড়া গ্রামে ধানক্ষেতে এক তরুণীর মরদেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত তরুণী সুলতানা আক্তার ওরফে রত্না (২০)। লাশের সুরতহাল শেষে পোস্টমর্টেমের জন্য প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম দেবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে (মামলা নং-২৭/১৬১, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর দিকনির্দেশনায়, দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্যামূয়েল সাংমার তদারকিতে এবং তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে দেবীগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নামে।
এক পর্যায়ে নিহত রত্নার প্রেমিক মহাদেব রায় (৩০), পিতা- খোকা বর্মণ, গ্রাম- উপেন চৌকি ভাজনী পুন্ডিপাড়া, দেবীগঞ্জ থানার বাসিন্দা — তাকে ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মহাদেব রায় স্বীকার করেন, তার সঙ্গে রত্নার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে মহাদেবের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করা হলে রত্না বিষয়টি জানতে পেরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। ঘটনার দিন মহাদেব পরিকল্পনা করে রত্নাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে নিজের পরনের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে রত্নাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর গ্রেপ্তার মহাদেব রায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন