
মূলধনে সামান্য বৃদ্ধি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে হলেও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) এক সদস্য জানান, সূচক নয়, লেনদেনই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “আমার হাউসে আগে ১৬ হাজার গ্রাহক ছিল, এখন তা নেমে এসেছে তিন হাজারে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন বিনিয়োগকারী লেনদেনে অংশ নেন না। যারা রয়েছেন, তাদের অধিকাংশের কাছেই বিনিয়োগ করার মতো অর্থ নেই।”
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫,৯২৪ পয়েন্ট। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট তা নেমে এসেছে ৫,৩৫১ পয়েন্টে। অর্থাৎ, সূচক কমেছে ৫৭৩ পয়েন্ট বা প্রায় ৯.৬৭ শতাংশ।
তবে সূচক ও লেনদেন কমলেও বাজার মূলধনে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ডিএসইর মোট বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৩ হাজার ৯১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১২ হাজার ৯৪০ কোটি ৮ লাখ টাকায়। এই সময়ে মূলধন বেড়েছে প্রায় ৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের এই চিত্র নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি-র চেয়ারম্যান ও বাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, অতীতের দুর্নীতি ও অস্থিরতা কাটিয়ে বাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির ফলে কিছু বিনিয়োগ সেখানেও চলে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বিআরবি সিকিউরিটিজ-এর প্রধান নির্বাহী আলমগীর হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সংঘাত, উচ্চ শুল্কারোপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবুও বর্তমানে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তবে সেটি কতদিন স্থায়ী হয় তা সময়ই বলে দেবে।
মন্তব্য করুন