
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট ও সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও বিলম্বের কারণে লাখো আবেদনকারীর ভোগান্তি বাড়ছে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩৩ লাখ আবেদন জমা পড়লেও লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন মাত্র ২৬ লাখ গ্রাহক। বাকি প্রায় ৭ লাখ আবেদন এখনও ঝুলে আছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৮ হাজার স্মার্ট কার্ড সরবরাহের কথা থাকলেও কার্ডের সংকটের কারণে একদিনও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে লাইসেন্স প্রিন্ট ও বিতরণ সম্ভব হয়নি।
ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু হয় ২০১১ সালে। প্রথমে প্রকল্পে ছিল টাইগার আইটি, পরবর্তীতে ২০১৮–২০২১ মেয়াদে আবারও দায়িত্ব পায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে বিশ্বব্যাংকের কালোতালিকাভুক্ত হওয়ায় ২০১৯ সালের আগস্টে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিলেও সার্ভার ও ডাটাবেজ হস্তান্তরে গড়িমসি এবং আবেদন আটকে রাখার মতো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
সর্বশেষ দায়িত্বে থাকা মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্সও চুক্তি শেষে ডাটাবেজ নিজেদের দখলে রেখে বিদায় নিয়েছে, ফলে লাইসেন্স জট আরও বেড়েছে।
বুয়েটের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামছুল হক মনে করেন, বিআরটিএর অপেশাদার আচরণই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মূল কারণ। তার মতে, “দায়িত্বশীলরা সুবিধা ভোগ করেন, কিন্তু কোনো জবাবদিহি নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সরবরাহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়নিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন।”
মন্তব্য করুন