
ঢাকার পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে সবজি ও খাদ্যপণ্য পরিবহনের পথে নানা নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পথে আট জায়গায় বিভিন্ন নামে টাকা দিতে হয়। যদিও পরিমাণে এসব চাঁদা খুব বেশি নয়, তবে তারা দাম বৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে বিষয়টি সামনে আনেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই সবজির খুচরা ও পাইকারি দামের মধ্যে অনেক সময় ২০০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য দেখা দেয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কারওয়ান বাজারে প্রবেশ করতে একটি ট্রাককে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ১০০ টাকা, পার্কিং খরচ হিসেবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, বাজার খাজনা ৪০০ টাকা, দালালদের ১ হাজার টাকা, শ্রমিক সমিতিকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা, মালিক সমিতিকে ৫০ টাকা, বাজার কমিটিকে ১৬০ টাকা এবং সুইপার চাঁদা হিসেবে আরও ২০০ টাকা গুনতে হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে মালিক সমিতির চাঁদা নেওয়া হয় না।
এ ছাড়া আড়তদার, শ্রমিক ও ভ্যানচালকদের যোগসাজশে নানা অজুহাতে পাইকারদের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সড়কে পুলিশের নিয়মিত চাঁদাবাজির সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া গেলেও, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য মামলার ভয় দেখিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সবজি উৎপাদন হলেও আড়তের অভাবে কৃষক ও ফড়িয়াদের অন্য জেলায় গিয়ে সবজি বিক্রি করতে হয়। এতে তাদের পরিবহন খরচ বাড়ে, যা সবজির দামে প্রভাব ফেলে।
গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সড়কে মামলার নামে হয়রানি বা সাধারণ যানবাহন থামিয়ে টাকা নেওয়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে।
সুপারিশ
প্রতিবেদনে তিনটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে—
১. সড়কে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম রোধে মনিটরিং বাড়াতে হবে।
৩. বেশি উৎপাদনশীল জেলাগুলোতে আড়ত স্থাপন করে সরবরাহ ব্যবস্থায় হাতবদল কমাতে হবে, যাতে ভোক্তাদের জন্য যৌক্তিক দামে সবজি নিশ্চিত করা যায়।
মন্তব্য করুন