নিজস্ব প্রতিবেদক,নীরা :
এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেও ট্রফি হাতে তুলতে না পারা—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা খুবই বিরল। সেই বিরল ঘটনার শিকার হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়ের পরও ভারত দল ট্রফি গ্রহণ করেনি, কারণ এসিসি (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল) সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা পাকিস্তানের মহসিন নাকভির হাত থেকে পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদবরা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নাকভিও ট্রফি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।
এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রফি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিষয়টি আইসিসির সভায় তোলার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিতে না গিয়েই, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে আসে দুই বোর্ড।
বিসিসিআই সদস্য সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে জানান,
> “বিসিসিআই ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বন্ধুত্বপূর্ণভাবে এশিয়া কাপ ট্রফি বিতর্কের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি আইসিসির দুই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলাম, যেখানে নাকভিও অংশ নিয়েছিলেন।”
ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তথ্যমতে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত।
বিসিসিআই সচিব আরও বলেন,
> “আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। উভয় পক্ষই আন্তরিকভাবে অংশ নিয়েছে। এখন বরফ গলেছে—সবকিছুই এগোচ্ছে সমাধানের পথে।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, খুব শিগগিরই ট্রফি ভারতীয় দলের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
> “দুই বোর্ডই যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান চায়। আমরা বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করছি, অপর পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব আসবে। লক্ষ্য একটাই—বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান।”
এভাবে মাসব্যাপী টানাপোড়েনের পর অবশেষে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা হলেও উষ্ণতার ছোঁয়া পেল। এখন দেখার বিষয়—কবে নাগাদ সেই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি ফিরে যায় আসল মালিকের হাতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।