
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
বর্তমানে থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গলার সামনের দিকে থাকা ছোট্ট থাইরয়েড গ্রন্থিটি আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। এটি এমন সব হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের প্রতিটি কোষ, টিস্যু ও অঙ্গের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ফলে এই গ্রন্থির কার্যকারিতায় সমস্যা দেখা দিলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, ঘুমের সমস্যা এমনকি মানসিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে।
বাঁধাকপি ও ফুলকপি নিয়ে প্রচলিত ধারণা
অনেকে মনে করেন, থাইরয়েড থাকলে বাঁধাকপি ও ফুলকপি খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। কিন্তু আসলে তা পুরোপুরি সত্য নয়। ভারতীয় পুষ্টিবিদ রাখি চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এই সবজিগুলো ক্রুসিফেরাস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ‘গোয়িট্রোজেনিক’ নামের একটি যৌগ থাকে।
এই উপাদান শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রবেশ করলে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, অল্প পরিমাণে বা সেদ্ধ করে খেলে এসব সবজি কোনো ক্ষতি করে না।
সেদ্ধ করার ফলে গোয়িট্রোজেনিক উপাদান অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়, তাই মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে বাঁধাকপি বা ফুলকপি খাওয়া নিরাপদ এবং পুষ্টিকর।
সোয়াবিন ও বিনস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
রাখির পরামর্শ অনুযায়ী, থাইরয়েড রোগীদের সোয়াবিন ও কিছু বিনস জাতীয় খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। কারণ এসব খাবারে গোয়িট্রোজেনিক উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
তবে সোয়া চাঙ্কস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কারণ এটি প্রক্রিয়াজাত করার সময় ক্ষতিকর উপাদান অনেকটাই কমে যায়।
থাইরয়েডে খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে
পুষ্টিবিদের মতে, থাইরয়েডের জন্য আলাদা কোনো কঠোর খাদ্যনিয়ম নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের হরমোনের অবস্থা বুঝে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।
হাইপোথাইরয়েডিজমে (হরমোন কম হলে): কম কার্বোহাইড্রেট ও নিয়ন্ত্রিত ক্যালরিযুক্ত খাবার উপকারী।
হাইপারথাইরয়েডিজমে (হরমোন বেশি হলে): ব্যালেন্সড ডায়েটের সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি।
বাঁধাকপি ও ফুলকপি থাইরয়েডের জন্য একেবারে ‘নিষিদ্ধ’ নয়। বরং সেদ্ধ করে, পরিমাণমতো খেলে এগুলো শরীরের জন্য উপকারী। তবে যেকোনো খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন