
নিজস্ব প্রতিনিধি, নীরা:
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিভিন্ন স্থানে তাঁর সৃষ্টির নামে শপথ করেছেন—যাতে বান্দা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তাৎপর্য গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। কখনো একটি, কখনো দুটি বা তিনটি বিষয়ে শপথ করে আল্লাহ মহিমান্বিত কোনো সত্য তুলে ধরেছেন। তবে কোরআনে এমন এক জায়গা রয়েছে, যেখানে পরপর সাতটি সৃষ্টির নামে শপথ করে আল্লাহ তায়ালা এক অসাধারণ বার্তা দিয়েছেন। এই বিরল ঘটনাটি রয়েছে ত্রিশতম পারার সুরা শামসে।
সুরাটির শুরুতে আল্লাহ তায়ালা সূর্য-চন্দ্র থেকে শুরু করে আসমান-জমিন এবং মানুষের নফস পর্যন্ত—সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয়কে সামনে এনে শপথ করেছেন। এরপর তিনি যে কথাটি বলেছেন, তা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গভীর তাৎপর্যের।
সুরা শামসের শুরুতে আল্লাহর সাত শপথ
১. সূর্য ও তার আলো
২. চাঁদ, যখন তা সূর্যের পর উদিত হয়
৩. দিন, যখন সে সূর্যকে প্রকাশ করে
৪. রাত, যখন সূর্যকে আচ্ছাদিত করে
৫. আসমান এবং যিনি তাকে সুগঠিত করেছেন
৬. জমিন এবং যিনি তাকে বিস্তৃত করেছেন
৭. মানুষের নফস এবং যিনি তাকে পরিপূর্ণ করেছেন—অতঃপর তার মাঝে ভালোমন্দ চিনবার ক্ষমতা দিয়েছেন
এই সাতটি শপথের পর আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন—
“সফল সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে পবিত্র করেছে; আর নাশ হবে সেই, যে তাকে কলুষিত করেছে।”
অর্থাৎ, আল্লাহর দৃষ্টিতে সত্যিকারের সফলতা আত্মশুদ্ধির মধ্যেই নিহিত। যে ব্যক্তি নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে খাঁটি মানুষে পরিণত হতে পারে, সে-ই প্রকৃত সফল। আর যে নিজেকে সংশোধন না করে অপরাধ, দুর্বলতা ও পাপের মধ্যে জীবন কাটায়—সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, কোরআনে ধারাবাহিক সাত শপথ অত্যন্ত বিরল। এটি বোঝায়—আত্মসংযম ও আত্মসংশোধন একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সকলকে নফস পরিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করেন—আমিন।
মন্তব্য করুন