নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
শরীরকে আরাম দেওয়া ও ঘুমের মান উন্নত করতে অনেকেই রাতের শেষ পানীয় হিসেবে ভেষজ চা, গোল্ডেন মিল্ক বা হালকা ঘরোয়া ড্রিংক পান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘গুড় ভেজানো পানি’। সহজলভ্য এই পানীয় এখন শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রাতের রুটিনে জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত গ্রহণ করলে এটি শরীরের ওপর বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক—টানা ৩০ দিন রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে শরীরে কী কী পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
১. ঘুমের আগে স্বস্তি এনে দেয়
গবেষণা বলছে, গুড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা পেশি শিথিল করে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। রাতে হামেশাই অস্থিরতা বা ঘুম না হওয়া যাদের সমস্যা, তাদের জন্য এই পানীয় আরামদায়ক হতে পারে। নিয়মিত পান করলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া ও পরদিন সকালে সতেজ বোধ করার সম্ভাবনাও বাড়ে।
২. লিভারে ডিটক্স প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে
গুড় প্রাকৃতিকভাবে শরীর পরিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে। রাতে এটি পান করলে ঘুমের সময় লিভারের ওপর চাপ কমে এবং শরীরের টক্সিন দূর হওয়ার প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। ফলে পরদিন জাগার পর ক্লান্তি কম অনুভূত হয় এবং শক্তির মাত্রা উন্নত হয়।
৩. হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক
গুড় পাচক এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা রাতের খাবার হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি মৃদু মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, ফলে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে। নিয়মিত পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন হজমজনিত সমস্যা কমে যেতে পারে।
৪. খনিজের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে
আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ গুড়ে থাকে। তাই প্রতিদিন রাতে এই পানি পান করলে শরীরের ছোটখাটো খনিজ ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। এসব খনিজ শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য, শক্তি উৎপাদন এবং স্বাভাবিক পেশি কর্মক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে পারে
গুড়কে অনেক সময় প্রাকৃতিক আয়রনের উৎস হিসেবে ধরা হয়। রাতে এটি পান করলে শরীর সহজে আয়রন শোষণ করতে পারে, যা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। যারা রক্তস্বল্পতা বা কম আয়রনের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
শেষ কথা
সহজ উপাদানে তৈরি ‘গুড় ভেজানো পানি’ সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এর স্বাস্থ্যবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে। তবে কারও যদি ডায়াবেটিস বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকে, সেক্ষেত্রে নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।