
ন
সাব্বির হোসেন, নীলফামারী
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মেলাবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’বছর ধরে খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় স্কুল মাঠেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে—যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় ক্লাস চালানো অসম্ভব হওয়ায় মাঠেই বসে পড়াশোনা করছে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোদ-বৃষ্টি—কোনোটাই এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাক আহমেদ বলেন,
“প্রায় দু’বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প ক্লাসরুম না থাকায় বাধ্য হয়ে মাঠে পাঠদান করছি। বর্ষাকালে তো চরম ভোগান্তি হয়—ঠিকমতো ক্লাসই নিতে পারি না। আমরা এক বছর আগে জরুরি ভিত্তিতে ভবন বরাদ্দের আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।”
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। রোদে বসে থাকতে হয়, বৃষ্টি হলেই ছুটি দিতে হয়। তাদের দাবি—অল্প সময়ের মধ্যেই যেন পুনরায় স্কুল ভবনে ক্লাস শুরু করা যায়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার ড. মাহমুদা খাতুন বলেন,
“এই বিষয়টি আমরা আগেই বিভিন্ন মিটিংয়ে তুলেছি। সম্প্রতি ADP প্রকল্প থেকে কিছু বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। অন্তত চালাঘর নির্মাণ করে হলেও ক্লাস শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া PDP-ফাইভ থেকে একটি নতুন ভবনের বরাদ্দ রয়েছে—তবে সেটি সময়সাপেক্ষ।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিতম সাহা বলেন, ADP প্রকল্পের আওতায় আমরা কিছু বরাদ্দ দিয়েছি, যাতে আপাতত একটি টিনসেট ঘর করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা যায় হয়ত আগামী ডিসেম্বরেই তা বাস্তবায়ন হবে।
অভিভাবকরা বলছেন, বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পড়াশোনা—এ কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি আজানাচ্ছেন তারা।
শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত আগ্রহী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন