নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
ফুসফুসের ক্যানসার এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার পুরো অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেশি। কিন্তু নানা ভুল ধারণার কারণে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হয়। তাই সচেতনতা ও সঠিক তথ্য জানা এখন সময়ের দাবি।
ধূমপায়ীদের রোগ—এ ধারণা ভুল
চিকিৎসকেরা জানান, ফুসফুসের ক্যানসারের বড় ঝুঁকি ধূমপান হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মোট রোগীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কখনো ধূমপান করেননি। বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টস বা রাডন গ্যাসের সংস্পর্শ, পারিবারিক ইতিহাসসহ বিভিন্ন কারণ ধূমপানের মতোই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ খুবই নীরব
রোগের শুরুতে সাধারণত তেমন কোনো বিশেষ উপসর্গ দেখা যায় না। দীর্ঘদিনের কাশি, সামান্য শ্বাসকষ্ট বা অকারণে ক্লান্তিকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, লো-ডোজ সিটি স্ক্যান প্রাথমিক পর্যায়েই টিউমার শনাক্ত করতে সক্ষম, যা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।
কেবল সংক্রমণ নয়—দীর্ঘ কাশি হতে পারে সতর্ক সংকেত
অনেকেই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে তা সংক্রমণ ধরে নেন। কিন্তু কাশি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, ওজন কমে গেলে বা রক্ত দেখা দিলে অবশ্যই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সাধারণ এক্স-রে অনেক সময় টিউমার দেখাতে পারে না, তাই প্রয়োজন হতে পারে সিটি স্ক্যান বা ব্রঙ্কোস্কপি।
চিকিৎসা এখন আরও আধুনিক ও কার্যকর
ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে পুরোনো ধারণাও পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও প্রিসিশন মেডিসিন রোগীর জেনেটিক তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট চিকিৎসা নির্ধারণ করে। পাশাপাশি রোবটিক সার্জারি ও মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি রোগীর পুনরুদ্ধারকে দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলছে।
শুধু বয়স্কদের রোগ নয়
বয়স বাড়লে ঝুঁকি বাড়ে ঠিকই, কিন্তু তরুণরাও এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। বায়ুদূষণ, রাসায়নিকের সংস্পর্শ, পারিবারিক ইতিহাস—এগুলো তরুণদের মধ্যেও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বয়স নির্বিশেষে ঝুঁকিতে থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি।
চিকিৎসকেরা জানান, ফুসফুসের ক্যানসার যত আগেই শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার ফল তত ভালো হয়। তাই কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অকারণে দুর্বলতা—এ ধরনের উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। ধূমপান, দূষণ বা বংশগত কারণ—যে কারণেই হোক, সচেতনতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।