নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা:
ঘুম মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। সারাদিনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ ঘুমের মাধ্যমে পায় প্রশান্তি। পবিত্র কোরআনে ঘুমকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন— ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী এবং রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা : ৯-১০)
ইসলামী ব্যাখ্যায় বলা হয়, ঘুমের সময় মানুষের আত্মা দেহ থেকে এক ধরনের বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে এবং সে অনন্য এক অদৃশ্য জগতে প্রবেশ করে। সেখানেই মানুষ দেখে বিভিন্ন স্বপ্ন, যা কখনো মনে থাকে, কখনো আবার ভুলে যায়।
মুমিনদের হৃদয়ে নবী করিম (সা.)–এর প্রতি প্রেম ও শ্রদ্ধা সবসময় গভীর। তাই অনেকেই আশা করেন স্বপ্নে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভের। হাদিসে রয়েছে—শয়তান কখনোই নবীজির (সা.) রূপ ধারণ করতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে সত্যিই আমাকে দেখল।” (সহিহ বুখারি)
তবে স্বপ্নে নবীজিকে (সা.) দেখার বিষয়ে বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট আমল সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহও একই মত প্রকাশ করেন। তবে ইতিহাসে অনেক নেককার আলেম তিনটি আমল অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো মুমিনের হৃদয়ে নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত রাখতে সহায়ক হতে পারে।
উল্লেখিত তিনটি আমল হল
১. নবী করিম (সা.)–এর প্রতি দৃঢ় ভালোবাসা ও আন্তরিক ঈমান পোষণ করা।
২. সর্বক্ষেত্রে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করার চেষ্টা করা।
৩. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা এবং পবিত্রতা বজায় রেখে ঘুমানো।
হাদিসে এসেছে—যে ব্যক্তি নবীজির (সা.) ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশগুণ রহমত বর্ষণ করেন। (সহিহ মুসলিম)
এ ছাড়া ইতিহাসে কিছু অলিমা বিশেষ নফল আমলের কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন—জুমার রাতে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নির্দিষ্ট কিছু কোরআন তিলাওয়াত ও দরুদ পাঠের পর ঘুমানো, অথবা নফল নামাজে বারবার সুরা ইখলাছ ও দরুদ পাঠ করার মাধ্যমে নবীজির (সা.) দিদার লাভের আশা করা।
তবে আলেমদের মতে, এগুলো নিশ্চিত পদ্ধতি নয়; বরং আশা করার মতো আমল। আসল মূলনীতি হলো—নবীজির (সা.) শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা, সুন্নাহর অনুসরণ এবং নিয়মিত দরুদ পাঠ করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।