সকালে অফিস, পড়াশোনা কিংবা ঘরের কাজ—সব মিলিয়ে অনেকেরই সময়ের বড় অভাব থাকে। তাই দ্রুত নাশতার জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে অনেকেই পাউরুটিকে বেছে নেন। কেউ সাধারণভাবে খান, আবার কেউ স্যান্ডউইচ বা টোস্ট বানিয়ে নেন।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট Medical News Today-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন পাউরুটি খেলে কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে পাউরুটি খাওয়া আরও বেশি ক্ষতিকর।
কেন পাউরুটি নিয়ে সতর্ক চিকিৎসকরা?
🔸 খালি পেটে ইস্টজাত খাবারের ক্ষতি
পাউরুটি তৈরিতে ইস্ট ব্যবহার করা হয়, যা রুটিকে নরম ও ফুলিয়ে তোলে। চিকিৎসকদের মতে, খালি পেটে ইস্টজাত খাবার খেলে হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
🔸 মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাউরুটিতে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্যও নিরাপদ নয়।
🔸 গ্যাস ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি
পাউরুটিতে গ্লুটেনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। অনেকের শরীর গ্লুটেন সহ্য করতে পারে না। ফলে গ্যাস, বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। যাদের আগে থেকেই পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পাউরুটি এই সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
🔸 পুষ্টিহীন ময়দার সমস্যা
পাউরুটি সাধারণত পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি। এতে ফাইবারের পরিমাণ খুব কম হলেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি বেশি থাকে। ফলে নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও তৈরি হয়।
🔸 ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের আশঙ্কা
অনেক পাউরুটিতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং কখনো ট্রান্স ফ্যাটও থাকে। এসব উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করলে দ্রুত ওজন বাড়ে, রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয় এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
তাহলে নাশতায় কী খাবেন?
স্বাস্থ্যকর থাকতে চাইলে সকালের নাশতায় পাউরুটির বদলে পুষ্টিকর ও সহজ বিকল্প বেছে নেওয়াই ভালো। যেমন—
ওটস
ডিম
মৌসুমি ফল
ঘরে তৈরি সবজি স্যান্ডউইচ
দই ও বাদাম
সময় কম হলেও স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ সুস্থ শরীরই দীর্ঘমেয়াদি সুখের মূল চাবিকাঠি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।