দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (৪ মে) উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মূলত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ২০০১ সালে গড়ে তোলা এই প্রকল্পের খোলা জায়গাগুলো এখন ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০টি পরিবারকে ২ শতাংশ জমি ও একটি করে টিনশেড ঘর দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা ও বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কিছু খোলা স্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে সেই সংরক্ষিত খোলা জায়গাগুলোর ওপরই একের পর এক পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বহুতল ভবনও গড়ে উঠছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—যারা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থাপনা নির্মাণ করছেন, তারা কীভাবে ‘ভূমিহীন’ বা ‘অসহায়’ হিসেবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে এসব দখল ও নির্মাণকাজ চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ওসমান গনি, শহিদ, ওমর আলী, আব্দুর সাত্তার ও জলিল মিয়া। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কোনো বৈধ অনুমতি বা জমি ক্রয় ছাড়াই প্রকল্পের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এমনকি ওই এলাকার বাইরের লোকজনও এসে এখানে বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। তারা নিজেদের গরিব ও অসহায় দাবি করে বলেন, পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নতুন ঘর নির্মাণের প্রয়োজন হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করেছেন যে, এসব নির্মাণকাজের জন্য তারা কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেননি। অনেকেই জানান, অন্যদের দেখে তারাও খালি জায়গায় বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছেন।
এরই মধ্যে দেবীডুবা ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা দিপালী রানী রায় গত ২৫ এপ্রিল অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য নোটিশ প্রদান করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া জানান, সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প শুধুমাত্র প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ শতাংশ জমি প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে পেতে পারেন। এর বেশি জমি দখল বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, তদন্ত করে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হবেন এবং সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।