দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের খুটামারা চেপ্টিকুড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা কেটে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় রাস্তা পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
গতকাল সোমবার (২৯ জুন) এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আব্দুল মালেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন করেন।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৬ বছর ধরে এলাকার কয়েকটি পরিবার ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি জমির মালিক হঠাৎ করে রাস্তা কেটে সেখানে হালচাষ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ভ্যানচালকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
অভিযোগকারী মো. আব্দুল মালেক বলেন, “জমিটি তাদের মালিকানাধীন হতে পারে। কিন্তু আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করছি। আমি একজন ভ্যানচালক। এখন ভ্যান নিয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না। আগে অন্যের বাড়িতে ভ্যান রেখে একটি ভ্যান হারিয়েছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী কয়েকদিন সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই জমির মালিক রাস্তা কেটে হালচাষ করে দেন।”
অন্যদিকে জমির মালিক মোঃ পরশ দাবি করেন, রাস্তা ব্যবহার নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে সবাই চলাচল করুক, এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি আবারও রাস্তা আগের মতো করে দেব। তবে যারা এই রাস্তা ব্যবহার করেন, তাদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির পাশের চলাচলের রাস্তা বিভিন্নভাবে বন্ধ করে রেখেছেন। এতে অন্যদের স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগকারী আব্দুল মালেক যদি প্রয়োজনীয় জমি ছেড়ে দিয়ে সবার চলাচলের ব্যবস্থা করেন, তাহলে আমিও রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেব।”
এ বিষয়ে চেপ্টিকুড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আশারু বলেন, “রাস্তাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর অবস্থিত। রাস্তা কেটে দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রায় ৯ থেকে ১০টি পরিবার এই পথ ব্যবহার করে। মূলত স্থানীয়দের পারস্পরিক বিরোধ থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করে রাস্তাটি পুনরায় সবার চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথটি পুনরুদ্ধারে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আজহারুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা-১২১০। আঞ্চলিক কার্যালয়: উকিলের মোড়, কলেজ স্টেশন রোড়, নীলফামারী।