
ঢাকা শহরে রিকশায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাতে, অনেক যাত্রী রিকশাচালকদের ছদ্মবেশে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে অনেকেই রিকশায় চলাচল কমিয়ে দিয়েছেন।
গোপীবাগ এলাকার বাসিন্দা ও এক ব্যাংক কর্মকর্তা সুরাইয়া খানম জানান, তার বাসা ভেতরের একটি নির্জন গলিতে হওয়ায় তিনি রাতে রিকশা ব্যবহার প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে এখন তার ভাই মোটরসাইকেলে তাকে বাসায় পৌঁছে দেন।
রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, “রিকশায় সহজে চলাচল করা যায় বলে কিছু অপরাধী এই বাহনটি অপব্যবহার করছে। আবার কিছু চালক আর্থিক সংকটে পড়ে অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তাই প্রতিটি রিকশাচালকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিটি রিকশায় ট্র্যাকার এবং কিউআর কোড চালু করা গেলে চালক ও যান শনাক্তকরণ সহজ হবে এবং অপরাধ কমবে। প্রযুক্তির এমন ব্যবহারে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে স্থায়ী সমাধান আসতে পারে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিকশাচালকদের পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধনের কার্যকর কোনো পদ্ধতি বর্তমানে নেই। ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে চালক বা সংশ্লিষ্ট রিকশাটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শাহরিয়ার আলী বলেন, “আমাদের এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগে যেমন মোটরসাইকেল ছিনতাই হতো, এখন অপরাধীরা রিকশাকেও ব্যবহার করছে।”
তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, “ছিনতাইসহ সব অপরাধে পুলিশ তৎপর। যদি রিকশাচালকের সংশ্লিষ্টতার নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নগরবাসী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের নিরাপত্তা রক্ষায় রিকশাচালকদের নিবন্ধন, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পুলিশের তৎপরতা একসঙ্গে কার্যকর হতে পারে।
মন্তব্য করুন