
এক বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। ছাত্র ও জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলনের ফলেই ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আন্দোলনের শুরুটা ঘটে আবু সাঈদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তার নির্মম মৃত্যু জনসাধারণকে ক্ষোভে ফুঁসিয়ে তোলে। রাজপথ জনতার দখলে চলে যায়, আর সেই উত্তাল মুহূর্তেই পতন ঘটে সরকারের। এক সময়ের অবিসংবাদিত প্রাসাদ যেন ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, যেখানে ছাত্র-জনতার ঐক্য ছিল অবিস্মরণীয়। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই অভ্যুত্থান ছিল ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রামের ফসল।
অভ্যুত্থানের সময় নেতৃত্ব ছিল ছাএ ছাত্রীদের হাতে, কিন্তু পিছনে ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বহুপক্ষীয় এই আন্দোলনের কারণেই সে সময় কারও একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং এটি ছিল এক সম্মিলিত গণচেতনার প্রতিফলন।
তবে এক বছরের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, সেই ঐক্যে ফাটল ধরেছে। অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভাজন ও মতানৈক্য ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। ইতিহাস বলে, যেকোনো রাজনৈতিক পালাবদলে বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণ থাকলে পরবর্তীতে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—জুলাই অভ্যুত্থানের সেই শক্তি ও ঐক্য আমরা ধরে রাখতে পারবো কিনা? আর যদি না পারি, তবে কি এই অভ্যুত্থানের অর্জনও হারিয়ে যাবে দলাদলির ভেতর?
মন্তব্য করুন