
পঞ্চগড় প্রতিনিধি- বাপ্পী
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ঢাকার এক অভিনেত্রীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জামিরুল ইসলাম বাবুলের মেয়ে এবং নর্থ স্টার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গত ৬ মে সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু স্কুল শেষে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, ওই শিক্ষার্থী সেদিন স্কুলেই যায়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হয়। দীর্ঘ সময়েও সন্ধান না মেলায় শিক্ষার্থীর বাবা দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৩০) করেন।
এদিকে, একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে শিক্ষার্থীর বাবার মোবাইলে ফোন আসে। কলদাতা নিজেকে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আঙ্কেল, আপনার মেয়ে আমার কাছে এসেছে। আমি তাকে বিয়ে করেছি।”
এরপর থেকেই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে পুলিশের সহায়তায় নম্বরটি ট্রুকলারের মাধ্যমে “আকাশ” নামে শনাক্ত করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. আব্বাস আলী ওরফে আকাশ (৩৫)। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর হাজিরহাট এলাকায় এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বসবাস করতেন।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ মে রাতে ঢাকার বাড্ডা থানার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার ৪ নম্বর সড়ক থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় তার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে তার বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
পরে আজ ১৩ মে শিক্ষার্থীর বাবা মো. জামিরুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা নং-১২/৭১ দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মো. আব্বাস আলী ওরফে আকাশকে।
এছাড়া তার বড় বোন সুলতানা রোজ নিপা (৩৮), যিনি ঢাকায় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত, এবং দেবীগঞ্জ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. ফজিলা বেগমকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আকাশ দেবীগঞ্জে একটি ভেকু মেশিন কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কলেজপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই সময় শিক্ষার্থীর বাড়ির পাশ দিয়ে স্কুলে যাতায়াতের পথে তিনি তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থী প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর বাবা মো. জামিরুল ইসলাম বাবুল বলেন, “আমার নাবালিকা মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমার পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার মেয়ের লেখাপড়ার বড় ক্ষতি হয়েছে। সে একজন মেধাবী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল এবং ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন