
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগে মাজহারুল আনোয়ার জুয়েল (৪০) নামে অভিযুক্ত ছেলে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান। এর আগে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জুয়েল উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ময়দানপাড়া এলাকার মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মারুফা বেগম ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ও বড় ছেলে জুয়েলের সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করতেন। ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকায় চাকরি করেন। সম্প্রতি বাড়িতে এসে মাকে খুঁজে না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে লাভিন মিয়ার স্ত্রী ঘরের বিছানা গোছানোর সময় রক্তের দাগ এবং মেঝেতে ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের জানালে লাভিন মিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানার তোশকের নিচে রক্তের চিহ্ন এবং ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখতে পায়। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই জুয়েল মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছেন। পরে তিনি বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘মামলার পর অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাকে হত্যা করে মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ তার ছেলে জুয়েলের শোয়ার ঘরের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বুধবার (৩ জুন) মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন জুয়েল। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
মন্তব্য করুন