
ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু রোগী ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞ জনবল এখনো মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, অনেক মানুষ এখনো ডেঙ্গুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না করায় অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই শকে চলে যাচ্ছেন, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিয়মিত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে আরও দুই মাসেরও বেশি সময় ডেঙ্গুর সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জ্বর বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সর্বশেষ পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নতুন করে সারা দেশে ১৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যদিও সেদিন কারও মৃত্যু হয়নি। ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৪০ জন, চট্টগ্রামে ৫০ জন, ঢাকা বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় ২৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪২ জন, খুলনায় সাতজন এবং ময়মনসিংহে তিনজন।
এদিকে, একই দিনে ১৯৯ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ২১ হাজার ৯৯৮ জন রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মন্তব্য করুন