
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও দপ্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিপ্লববিরোধী স্লোগান দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, চাকমা, লেইস প্রকল্পের মেহেদী হাসান, অর্থ ও ক্রয় বিভাগের বাজেট শাখার সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং সরকারি মাধ্যমিক স্কুল উন্নয়ন প্রকল্পের মাহফুজ আল মাহমুদসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যান্যদের বিভিন্ন কলেজে বদলি করা হলেও এই তিনজন আপাতত বদলির বাইরে থাকছেন।
এ প্রসঙ্গে কাইয়ুম শিশির বলেন, “ফরাসি বিপ্লবের পর বিপ্লববিরোধীদের অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি হয়েছিল, এমনকি ফাঁসিও দেওয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ক্যাডার কর্মকর্তা হয়ে তারা বিপ্লববিরোধী স্লোগান দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা তালিকা পাঠিয়েছি, দ্রুত বদলি ও মামলা প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
মাউশি ও প্রকল্পে বদলির তালিকা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইং থেকে জানা গেছে, স্লোগানধারী ১১ জন কর্মকর্তাকে মাউশি ও বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ফাইল উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টার দপ্তরে যাচাই-বাছাই চলছে, আগামী সপ্তাহে ১০-১২ জনের বদলির আদেশ জারি হতে পারে।
এনসিটিবি ও শিক্ষা বোর্ডে বদলির আশঙ্কা
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোতেও বদলির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঠ্যপুস্তক শাখা বিতরণ নিয়ন্ত্রক হাফিজুর রহমানকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন এনসিটিবি সদস্য অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কিছু প্রেস মালিককে বই মুদ্রণের কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান কালবেলাকে বলেন, “রব্বানী জব্বার সমিতির সভাপতি হিসেবে আমার কাছে আসতেন, তবে কোনো গোপন বৈঠক করিনি।”
অন্য দপ্তরেও খোঁজখবর
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সাবেক মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অভিযোগ আছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের সময় দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় বদলে পুনর্বহাল হয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, যাতে দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরানো যায়।
মন্তব্য করুন