
নানা কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বাতাসও দূষিত। নিয়মিতভাবেই রাজধানী শহরটি বিশ্বের দূষিত নগরীর তালিকার প্রথমদিকের অবস্থান করলেও সম্প্রতি এ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ একিউআই স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ২৩তম। এ স্কোরকে দূষণের দিক থেকে ‘মাঝারি’ হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে একই সময়ে ১৮৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। দ্বিতীয় অবস্থানে গণতান্ত্রিক কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৪৯ স্কোর), তৃতীয় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা (১২১ স্কোর), চতুর্থ বাহরাইনের রাজধানী মানামা (১১৫ স্কোর) এবং পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিলের সাও পাওলো (১১৫ স্কোর)।
আইকিউএয়ারের প্রকাশিত একিউআই সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সহনীয় বা মাঝারি ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্যও অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর বিপর্যয়কর পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। তবে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য তা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। এ কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় পাঁচটি প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করে—বস্তুকণা (পিএম২.৫ ও পিএম১০), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন (ও₃)। ২০১৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিন উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণসাইটের ধুলা।
👉 সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন