
শিশুদের মধ্যে হাঁপানি একটি সাধারণ কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা। হঠাৎ উপসর্গ বেড়ে গেলে সেটি হাঁপানির অ্যাটাক হিসেবে ধরা হয়। এ সময় শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া জরুরি।
হাঁপানির অ্যাটাকের লক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর অ্যাটাকের সময় দেখা দিতে পারে—
তীব্র শ্বাসকষ্ট
ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
রক্তচাপ হ্রাস পাওয়া
হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক (খুব দ্রুত বা খুব ধীরে হওয়া)
বিভ্রান্তি বা ঘাবড়ে যাওয়ার প্রবণতা
এ ধরনের পরিস্থিতি হলে এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
হাঁপানির কারণ
শিশুদের হাঁপানি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ ভূমিকা রাখে:
বংশগত প্রভাব: পরিবারে কারও হাঁপানি বা অ্যালার্জি থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অ্যালার্জি: ধুলাবালি, পশুর লোম, ফুলের রেণু ইত্যাদি হাঁপানির কারণ হতে পারে।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ: ছোটবেলায় বারবার সর্দি-কাশি বা ফুসফুসে ইনফেকশন হলে হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে।
হাঁপানির ট্রিগার বা উদ্দীপক
শিশুদের হাঁপানি বেড়ে যাওয়ার কিছু সাধারণ উদ্দীপক রয়েছে—
সর্দি, কাশি বা ফ্লু
অতিরিক্ত ব্যায়াম বা দৌড়ঝাঁপ, বিশেষ করে ঠান্ডা বা ধোঁয়াটে পরিবেশে
ধোঁয়া, ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ
অ্যালার্জেন (যেমন ধুলা, পশুর লোম, ছাঁচ ইত্যাদি)
প্রতিরোধের উপায়:
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ভাইরাস থেকে দূরে রাখা
খেলাধুলার সময় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা
ঘরকে ধুলাবালি ও অ্যালার্জেনমুক্ত রাখা
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
শিশুর মধ্যে হাঁপানির উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হলে শিশুর জীবনযাত্রা সহজ ও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
👉 বিশেষজ্ঞরা বলছেন: সচেতনতা এবং প্রাথমিক যত্নের মাধ্যমেই শিশুদের হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মন্তব্য করুন