
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন শুধু সময়মতো আয়োজন করলেই হবে না—তার আগে আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার এবং ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র সংশোধন, আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন ছাড়া সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তাদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন হলে কেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বেড়ে যাবে।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচার ও পুনর্বাসন নির্বাচনের আগে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করেন, এসব দাবি উপেক্ষিত হলে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, সব পক্ষই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে যারা নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা করছে তারাই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অপপ্রচারে লিপ্ত।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খানও স্পষ্ট করে বলেন, ফেব্রুয়ারির বাইরে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি গণহত্যার বিচার ও রাজনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মত
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক মনে করেন, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ বহুমুখী সংকটে পড়বে। সামাজিকভাবে হতাশা, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে। অর্থনৈতিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসবে এবং মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব তীব্র হবে।
তার মতে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। ফলে গণতন্ত্রের পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা জোরদার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সারসংক্ষেপ
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো নির্বাচনী ইস্যুতে ভিন্নমত বিদ্যমান। কেউ বিচার ও সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আবার কেউ নির্বাচনকেই প্রধান লক্ষ্য বলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সবার ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ, সময়মতো ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই হবে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য একমাত্র সঠিক পথ।
মন্তব্য করুন