
ইসলাম শুধু আখিরাত নয়, দুনিয়ার প্রতিটি বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্যক্তি থেকে পারিবারিক জীবন, সামাজিক থেকে রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবন—সব ক্ষেত্রেই ইসলামের রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তাই রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ইসলাম স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।
নির্বাচনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামি নীতিতে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, ঘুষখোর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, মিথ্যাবাদী কিংবা ধর্মবিমুখ ব্যক্তিরা কখনোই নেতৃত্ব পাওয়ার যোগ্য নন। নেতৃত্বের আসনে বসার জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, মানবদরদি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব।
এ কারণে ভোট প্রক্রিয়া শুধু নিরপেক্ষ হওয়া নয়, বরং উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করাও মুসলমানদের জন্য বড় দায়িত্ব। ভোট দেওয়া মানে কারো যোগ্যতা ও সততার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা। আর মিথ্যা সাক্ষ্য ইসলামে বড় কবিরা গোনাহ হিসেবে গণ্য।
ভোট না দিলে কি গোনাহ হবে?
এ প্রসঙ্গে দেশের প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন,
“যদি মনে হয় কাউকে উপযুক্ত মনে হচ্ছে না অথবা নিরাপদ পরিবেশ নেই, তাহলে ভোট না দিলে গোনাহ হবে না। ভোট ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তবে যদি ভোট দেন, তাহলে অবশ্যই সততা, আমানতদারিতা এবং ইসলামের স্বার্থ বিবেচনায় দিয়ে দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনার ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার ফলে কারো অযাচিত সুবিধা হলে, তখন সেটি আপনার দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করবে।”
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ভোটের গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“যে লোক সৎকাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার সওয়াবে অংশীদার হবে। আর যে মন্দ কাজে সুপারিশ করবে, সে তার গুনাহের অংশীদার হবে।” (সূরা নিসা: ৮৫)
আরেক আয়াতে এসেছে—
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো এবং ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বা আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়।” (সূরা নিসা: ১৩৫)
সহিহ বুখারির এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্যকে বড় কবিরা গোনাহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন,
“আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য—এগুলো বড় কবিরা গোনাহ।”
উপসংহার
ইসলামের আলোকে ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। যোগ্য, খোদাভীরু ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া একদিকে যেমন দায়িত্ব, অন্যদিকে মিথ্যা সাক্ষ্য এড়িয়ে চলাও অপরিহার্য। তাই মুসলমানদের উচিত ভোট প্রক্রিয়াকে কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা।
মন্তব্য করুন