
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
কিডনি ক্যানসারকে বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলে উল্লেখ করেন। কারণ, রোগটি শরীরে দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং তখন জটিলতা বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি সাধারণ শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
প্রস্রাবে রক্ত—সতর্কবার্তার প্রথম ইশারা
চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় হেমেচুরিয়া। প্রস্রাবের রং হালকা গোলাপি, লালচে বা বাদামি হয়ে গেলে অনেকেই গুরুত্ব দেন না, কারণ এটি কখনো কখনো এক-দু’দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। অথচ এই পরিবর্তন সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর বা আরও গুরুতরভাবে কিডনি ক্যানসারের ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পিঠের নিচের অংশে স্থায়ী ব্যথা
সাধারণ পিঠব্যথা এবং কিডনি–সংক্রান্ত ব্যথার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রে পিঠের নিচের দিকে বা পাশে (ফ্ল্যাংক এলাকায়) চাপা ধরনের ব্যথা অনুভূত হয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে। কোনো আঘাত ছাড়াই এ ব্যথা দেখা দিলে কিংবা প্রস্রাবে রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হলে পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
হঠাৎ ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া
ব্যায়াম বা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমতে থাকলে তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যানসারের কারণে শরীরের হরমোন ও বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, ফলে ক্ষুধা কমে এবং শরীর দুর্বল হতে থাকে। এই লক্ষণ ক্লান্তির সঙ্গে মিলে গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
কিডনির আশপাশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব
পাঁজরের নিচে বা কিডনির পাশে চাকা বা ফোলাভাব অনুভূত হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। অনেক সময় এটি সিস্ট বা চর্বি জমার মতো সামান্য সমস্যাও হতে পারে, তবে ক্যানসার হলে ফোলাভাব ধীরে ধীরে বড় হয়। তাই আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা স্ক্যানের মাধ্যমে কারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কিডনি ক্যানসারের প্রভাবে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে, ফলে অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। এতে রোগীরা সাধারণের তুলনায় বেশি ক্লান্ত ও অবসন্ন অনুভব করেন। বিশ্রামের পরও যদি দুর্বলতা না কমে এবং এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা প্রস্রাবে রক্তের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে চিকিৎসক দেখানো উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেশি। তাই শরীরে এসব পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
মন্তব্য করুন