
রকি নিজস্ব প্রতিবেদক :
নীলফামারী সদর উপজেলার শাহীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনাড়ম্বর কিন্তু আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৭ নভেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘ ছয় বছরের পাঠশালা জীবনের স্মৃতি বুকে নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন বিদায় নিচ্ছিল, তখন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার চোখেই ছিল আবেগের ছাপ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা ও উপদেশমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জছিজুল আলম মণ্ডল, নীলফামারী সদর। তিনি বলেন,
“প্রাথমিক শিক্ষা একটি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রথম ধাপ। এ ভিত্তিই যত মজবুত হবে, ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে। তোমরা আজ বিদায় নিলে, কিন্তু শিক্ষার পথে অগ্রযাত্রা যেন কখনও থেমে না যায়।”
তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতাউল গনি ওসমানী, নীলফামারী সদর। তিনি বলেন,
“বিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি জীবনের জন্য মূল্যবান সম্পদ। তোমরা এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক শামিমা আখতার। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,
“ভাল মানুষ হও—এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। যেখানে যাবে, সততা ও নিয়মানুবর্তিতা ধরে রাখবে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খয়রুন নেছা আবেগঘন কণ্ঠে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন,
“তোমাদের সাফল্যই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। জীবনের প্রতিটি ধাপে তোমরা যেন আরও উঁচুতে ওঠো।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক মোঃ মনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি মমতা, স্নেহ ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়ে বলেন,
“তোমাদের এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়; নতুন পথের শুরু। জীবনের প্রতিটি ধাপে মনোযোগী ও সৎ থাকবে।”
এছাড়াও বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল হাসি, আনন্দ ও স্মৃতিচারণের রেশ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেয় এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
অতিথি ও শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, এই বিদায় অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং তারা একদিন দেশের সম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।
মন্তব্য করুন