
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা:
বর্তমান সময়ে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে চলেছে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম (Arrhythmia) অনেক সময় সামান্য সমস্যা মনে হলেও, সময়মতো যত্ন না নিলে এটি ভবিষ্যতে গুরুতর হৃদরোগের কারণ হতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টিকর ও হৃদযন্ত্রবান্ধব খাবার যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
তাদের মতে, কিছু সাধারণ খাবার রয়েছে যেগুলো হৃদয়ের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে ও প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ছয়টি কার্যকর খাবারের কথা—
১. আমন্ড: হৃদপেশির ছন্দ ঠিক রাখতে সহায়ক
আমন্ডে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে পেশিতে টান ধরা, ক্র্যাম্প কিংবা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন ৫–৭টি আমন্ড খাওয়া হার্টের জন্য উপকারী। পাশাপাশি এর ভিটামিন–ই শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকেও রক্ষা করে।
২. কলা: ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে
পটাসিয়ামের অন্যতম সহজলভ্য উৎস হলো কলা। পটাসিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রেখে সোডিয়াম-পটাসিয়াম অনুপাত নিয়ন্ত্রণ করে, যা স্থির হৃৎস্পন্দনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন একটি কলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
৩. ডার্ক চকলেট: রক্তনালীকে শিথিল করে
ডার্ক চকলেটে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্লাভোনয়েড রক্তনালীকে শিথিল করে, রক্তচাপ কমায় এবং প্রদাহ হ্রাসে ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা দিনে ১–২ স্কোয়ারের বেশি না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
৪. ওটস: কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর
হৃদস্বাস্থ্য রক্ষায় সুপারফুড হিসেবে পরিচিত ওটসে রয়েছে বিটা-গ্লুকান, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং হার্টবিট স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। নাশতায় দুধ বা দইয়ের সঙ্গে ওটস খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় ফাইবার, আর হৃদয় পায় অতিরিক্ত সুরক্ষা।
৫. ফ্যাটি মাছ: হৃদয়ের বৈদ্যুতিক সংকেত স্থিতিশীল রাখে
সালমন, ম্যাকারেল, সার্ডিনসহ ফ্যাটি মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সমৃদ্ধ উৎস। এই ওমেগা–৩ প্রদাহ কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য ইলিশ, রুই ও তেলাপিয়াতেও কিছুটা ওমেগা–৩ পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৬. পালং শাকসহ সবুজ শাক: ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস
পালং ও অন্যান্য সবুজ শাকে রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, যা হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবুজ শাক শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া ভালো করতেও সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাবারে অন্তত এক বাটি শাক রাখা উচিত।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত করণীয়
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন
লবণ, চর্বি ও উচ্চ তেলজাত খাবার কমান
ক্যাফেইন ও জাঙ্ক ফুড গ্রহণ কমিয়ে দিন
স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
বছরে কমপক্ষে একবার হৃদযন্ত্র পরীক্ষা করুন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাবার নির্বাচন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই তিনটি অভ্যাসই দীর্ঘদিন হৃদয়কে সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন