
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা:
ধূমপান ছেড়ে দেওয়া অনেকের কাছেই যেন সবচেয়ে কঠিন অভ্যাসগুলোর একটি। সিগারেট যে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর—এ কথা জানা থাকলেও বাস্তবে তা ছাড়তে পারেন না বহু মানুষ। আশপাশে তাকালেই ধূমপায়ীদের উপস্থিতি এই নেশাকে আরও জটিল করে তোলে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে ধূমপান ছাড়াও সম্ভব।
ভারতের খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ধূমপান ছাড়তে আগ্রহীদের জন্য একটি কার্যকর কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা ‘৩-৩-৩-৩ নিয়ম’ নামে পরিচিত। তাঁর মতে, ধূমপানের নেশা শুধু মানসিক নয়, বরং নিকোটিনের কারণে এটি শারীরিকভাবেও মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। একবার নিকোটিন শরীরে ঢুকলে তা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় ও ধৈর্য—দুটোই প্রয়োজন।
কী এই ৩-৩-৩-৩ নিয়ম?
ডা. নারায়ণের ব্যাখ্যায়, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সময়কে চারটি ধাপে ভাগ করলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়—
প্রথম ৩ সপ্তাহ:
এই সময়টিই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। নিকোটিনের তীব্র টান বা ‘ক্রেভিং’ বারবার ফিরে আসে। এ সময় কিছু কৌশল কাজে লাগতে পারে
হাতে চুইংগাম, লজেন্স বা ছোট কোনো খাবার রাখা
সিগারেটের ইচ্ছা জাগলে নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা
নিজের উপর বিশ্বাস রাখা যে, সিগারেট ছাড়াও থাকা সম্ভব
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ
৩ মাস:
এই পর্যায়ে ধূমপান ছাড়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। শরীর ও মন ধীরে ধীরে নিকোটিন ছাড়াই স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
৩ বছর:
টানা তিন বছর ধূমপান থেকে দূরে থাকতে পারলে, একজন মানুষকে কার্যত নেশামুক্ত বলা যায়।
ধূমপানের ভয়াবহতা
চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, ধূমপান কেবল একটি খারাপ অভ্যাস নয়, এটি জীবনঘাতী ঝুঁকির কারণ। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে ওরাল ক্যান্সার, ফুসফুসের জটিল রোগসহ নানা মারাত্মক সমস্যা দেখা যায়। তাই সময় থাকতে এই নেশা থেকে বেরিয়ে আসাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
বিশেষ পরামর্শ
সিগারেটের টান উঠলে ধূমপায়ী পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
মন ও হাত ব্যস্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন
ধাপে ধাপে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ান
প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৃঢ় মানসিকতা ও সঠিক কৌশল থাকলে ধূমপান ছাড়াটা অসম্ভব নয়—বরং তা হয়ে উঠতে পারে জীবনের সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
মন্তব্য করুন