
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। রক্ত পরিশোধন, শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া, লবণ ও খনিজের ভারসাম্য রক্ষা এবং রক্ত তৈরিতে সহায়তা—সব মিলিয়ে কিডনি কাজ করে এক ধরনের প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক সময় আমরা তা বুঝতে পারি না।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগ শুরুতে প্রায়ই নীরব থাকে। তবে শরীর ধীরে ধীরে কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ সময়মতো চিনে নিতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
সবসময় ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমে যায়। এর ফলে সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, মাথা ভার থাকা কিংবা কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিডনি রোগের কারণে রক্তস্বল্পতাও তৈরি হয়, যা দুর্বলতার অন্যতম কারণ।
ঘুমের সমস্যা
রক্তে টক্সিন জমে থাকলে স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হয়। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অনিদ্রার সমস্যাও কিডনি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া
কিডনি খনিজ ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, চুলকানি বা ফাটল দেখা দিতে পারে। এটি কখনো কখনো অগ্রসর কিডনি রোগের লক্ষণ।
ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও প্রস্রাবের সংক্রমণ বা প্রোস্টেটজনিত সমস্যাতেও এমন হতে পারে, তবু বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
প্রস্রাবে রক্ত
সুস্থ কিডনি রক্তকণিকাকে শরীরের ভেতরেই ধরে রাখে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। এটি কিডনি রোগ ছাড়াও পাথর, সংক্রমণ বা টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা
প্রস্রাবে অস্বাভাবিক পরিমাণ ফেনা বা বাবল দেখা গেলে বুঝতে হবে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে। এটি কিডনির ফিল্টার নষ্ট হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
চোখের নিচে ও শরীর ফুলে যাওয়া
চোখের নিচে হঠাৎ ফোলাভাব বা পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি সমস্যার কারণে হতে পারে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে সোডিয়াম ও পানি জমে এই ধরনের ফোলাভাব দেখা দেয়।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণের এক বা একাধিক দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমেই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন—
রক্ত পরীক্ষা (ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া)
প্রস্রাব পরীক্ষা (প্রোটিন, রক্তকণিকা)
আলট্রাসনোগ্রাম
কিডনি রোগ একবার গুরুতর হয়ে গেলে শরীরের অন্য অঙ্গগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শরীরের দেওয়া সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং সুস্থ থাকার দিকে মনোযোগ দিন।
মন্তব্য করুন