
জাতি কথা বলেছে। গণভোটে “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫” ভিত্তিক সাংবিধানিক ৪৭টি সংস্কারের পক্ষে যে রায় এসেছে, তা কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়—এটি এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা। সেই বার্তা হলো: ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতা নয়, ভারসাম্য; প্রতিহিংসা নয়, জবাবদিহিতা; দখল নয়, অংশীদারিত্ব।কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—ঘোষণা সহজ, বাস্তবায়ন কঠিন।
এই সনদে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, দ্বিকক্ষ সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংসদে বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতকরণ।প্রশ্ন হচ্ছে—এই পরিবর্তনগুলো কি সত্যিই ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে, নাকি কাগজে লেখা অঙ্গীকার হিসেবেই থেকে যাবে।
সরকারি দলের জন্য এটি আত্মতৃপ্তির সময় নয়। জনগণ তাদের হাতে যে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে, তা নিছক রাজনৈতিক সাফল্য নয়—এটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা।যদি দ্বিকক্ষ সংসদ কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়,যদি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে,
যদি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাস্তবে বাধাগ্রস্ত হয়,তবে এই গণভোটের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ক্ষমতা সীমিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা রক্ষা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ইতিহাস বিরোধী দলের দিকে তাকিয়ে এই সংস্কারপ্যাকেজ বিরোধী দলকে কেবল সমালোচকের আসন দেয়নি—দিয়েছে ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং সাংবিধানিক মর্যাদা।ডেপুটি স্পিকারের পদ,সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব,আইন প্রণয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ।এসব আর প্রতীকী নয়, কার্যকর ক্ষমতা।বিরোধী দলের এই ক্ষমতাকে দায়িত্বে রূপ দিতে হবে।গঠনমূলক বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করতে হবে।মানে বিকল্প প্রস্তাব, নীতিগত অবস্থান এবং গণস্বার্থে দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে।যদি বিরোধী দল নমনীয়তার রাজনীতি বেছে নেয়, তবে সংস্কারে
মন্তব্য করুন