
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় বিশ্ব মুসলিমের মতো বাংলাদেশেও রোজা পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি বা অসংক্রামক রোগে ভুগছেন, তাদের উচিত আগেভাগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজার পরিকল্পনা ঠিক করা। সঠিক নির্দেশনা মেনে চললে অধিকাংশ রোগীই নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।
চিকিৎসকদের মতে, রোজা কেবল ধর্মীয় ইবাদতই নয়, এটি শরীর ও মনের উন্নতিতেও সহায়ক হতে পারে। অনেকেই ধারণা করেন রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, কিন্তু বাস্তবে সঠিকভাবে রোজা পালন করলে সাধারণত এমন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। বরং আত্মসংযম, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি পায়।
রমজানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন পেপটিক আলসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, কিডনি, হৃদ্রোগ বা লিভারের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা। অনেকেই ভাবেন ওষুধের সময়সূচি বা ইনসুলিন গ্রহণের কারণে রোজা রাখা কঠিন হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের সময় ও মাত্রা সামঞ্জস্য করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত রোজা রাখতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রে রোজা রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়কও হতে পারে। বিশেষত যাদের ওজন বেশি, কোলেস্টেরল উচ্চ, বা ধূমপানের অভ্যাস আছে—তাদের জন্য রোজা স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা শুরু করার একটি ভালো সুযোগ। এতে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনাও থাকে।
তবে গুরুতর অসুস্থতা বা জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে রোজা রাখা নিরাপদ কিনা, সে সিদ্ধান্ত অবশ্যই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে। যদি রোজা রাখতে গিয়ে শারীরিক অসুস্থতা অনুভূত হয়, তাহলে তা ভেঙে ফেলার অনুমতিও রয়েছে—এ বিষয়টিও বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দেন।
সবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ, রোজা রাখতে আগ্রহী রোগীরা যেন দুশ্চিন্তায় না ভুগে বরং আগে থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঠিক করেন। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে রমজান হতে পারে আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনেরও এক অনন্য সুযো
মন্তব্য করুন