
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীরা :
রমজানের অন্যতম প্রধান আমল হলো তারাবির নামাজ আদায় করা। হাদিসে বর্ণিত আছে, ইমান ও সওয়াবের আশায় যে ব্যক্তি রমজানে রাতের নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়—এ কথা এসেছে সহিহ বুখারি-তে। আবার সুনান আবু দাউদ-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত তারাবি পড়লে পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়।
এতেকাফের ফজিলত
এতেকাফ মানে হলো দুনিয়ার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা। হাদিস সূত্রে জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় সহিহ বুখারি-তে উল্লেখ আছে—জীবনের শেষ রমজানে তিনি বিশ দিন এতেকাফ করেছিলেন।
লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান
রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খোঁজার নির্দেশ রয়েছে। পবিত্র আল‑কোরআন-এর সুরা কদর-এ বলা হয়েছে—এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। হাদিসে উল্লেখ আছে, শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এ রাত অনুসন্ধান করতে।
দান-সদকার প্রতি উৎসাহ
রমজান দানশীলতার মাস হিসেবেও পরিচিত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন এবং রমজানে তাঁর দান আরও বৃদ্ধি পেত—এ কথা পাওয়া যায় সহিহ বুখারি-তে। তাই এ মাসে দরিদ্র, এতিম ও অসহায়দের সাহায্য করা বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
দোয়া ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব
হাদিস গ্রন্থ আল‑জামিউস সাগীর-এ এসেছে, ইফতারের সময় বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। আর আত‑তারগিব ওয়াত তারহিব-এ বর্ণিত আছে—রমজানের দিন ও রাতে আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং তাদের দোয়া কবুল করেন।
তাহাজ্জুদের বিশেষ মর্যাদা
রাতের নফল নামাজ তাহাজ্জুদ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সহিহ মুসলিম-এর হাদিসে বলা হয়েছে—ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। সেহরির জন্য জাগতে হয় বলে রমজানে তাহাজ্জুদ আদায়ের সুযোগ আরও সহজ হয়।
✅ সারসংক্ষেপ:
রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়; বরং নামাজ, দোয়া, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণকাল। যারা আন্তরিকতা ও নিয়মিততার সঙ্গে এসব আমল করে, তাদের জন্য এ মাস হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বরকতময় সময়।
মন্তব্য করুন