
নিজস্ব প্রতিবেদক: নীরা:
ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদতের মধ্যে সালাত ও জাকাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মুসলমানদের সালাত কায়েম করা এবং জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষ যে ভালো কাজই করুক না কেন, তা আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত থাকে এবং তিনি সবকিছু প্রত্যক্ষ করেন। অন্য আয়াতে সালাত আদায়, জাকাত প্রদান এবং রাসুলের আনুগত্যকে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কার ওপর জাকাত ফরজ
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান যদি নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। তবে অবিশ্বাসী ব্যক্তি, মানসিক ভারসাম্যহীন মুসলমান এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর জাকাত বাধ্যতামূলক নয়।
যেসব সম্পদের ওপর জাকাত প্রযোজ্য
সব ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত আরোপিত হয় না। নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ওপর জাকাত দিতে হয়, যেমন—
সোনা ও রুপা (অলংকারসহ সব অবস্থায়)
নগদ অর্থ
ব্যবসায়িক পণ্য
শরিয়ত নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পালিত পশু
সোনা-রুপার অলংকার ব্যবহার করা হোক বা না হোক, তার জাকাত দিতে হবে। অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার তৈরি অন্যান্য সামগ্রীতেও একই বিধান প্রযোজ্য। এমনকি পোশাক বা অন্য কোনো বস্তুতে সোনা-রুপার কাজ থাকলে ব্যবহৃত ধাতুর পরিমাণ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে।
অন্যদিকে, সোনা-রুপা ছাড়া অন্যান্য ধাতুর অলংকার বা মূল্যবান পাথর যেমন হিরা-মুক্তা—ব্যবসার উদ্দেশ্যে না থাকলে সেগুলোর ওপর জাকাত ফরজ নয়।
সঞ্চিত অর্থ ও ব্যাংক জমা
মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ নিসাব পরিমাণ হলে এবং পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকলে তার জাকাত দিতে হয়। ব্যাংক জমা, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র—সবই নগদ অর্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। অর্থ ব্যবহার না করে জমা রাখলেও জাকাত দিতে হবে।
হজ, বাড়ি নির্মাণ বা বিয়ের মতো ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য জমা রাখা অর্থও জাকাতের আওতায় পড়বে, যদি তা নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং এক বছর অতিক্রম করে। তবে বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই খরচ হয়ে গেলে জাকাত ফরজ হবে না।
ব্যবসায়িক সম্পদ
ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা যেকোনো পণ্য—স্থাবর বা অস্থাবর—বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। জমি, ফ্ল্যাট, কাপড়, মুদি সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্য, গাড়ি, বইসহ দোকানে বিক্রির জন্য রাখা সব পণ্যের মোট মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে।
সারসংক্ষেপ: ইসলামে জাকাত শুধু দানের একটি রূপ নয়; এটি সম্পদের পবিত্রতা, সামাজিক ভারসাম্য ও দরিদ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়, তাদের উচিত নির্ধারিত নিয়ম মেনে সময়মতো তা আদায় করা।
মন্তব্য করুন