
বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাড়িতে, অফিসে কিংবা ভ্রমণের সময় তাৎক্ষণিক রক্তের চিনির পরিমাণ জানার জন্য ‘গ্লুকোমিটার’ নামের যন্ত্রটি হয়ে উঠেছে অপরিহার্য।
ঘরে বসেই এই যন্ত্রের সাহায্যে খুব সহজেই রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা যায়। ফলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
গ্লুকোমিটারের সঠিক ব্যবহার
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গ্লুকোমিটার পাওয়া গেলেও মানসম্মত যন্ত্র ও সহজলভ্য স্ট্রিপ নির্বাচন করাটা জরুরি। কারণ নিম্নমানের যন্ত্র সঠিক ফলাফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।
পরীক্ষা করার নিয়ম বেশ সহজ—
১. প্রথমে হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
২. অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে আঙুল পরিষ্কার করে শুকাতে দিন।
৩. গ্লুকোমিটারে নির্দিষ্ট একটি স্ট্রিপ প্রবেশ করান।
৪. ল্যানসেট দিয়ে আঙুল ফুটিয়ে এক ফোঁটা রক্ত বের করুন।
৫. সেই রক্ত স্ট্রিপে দিন এবং কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
৬. স্ক্রিনে গ্লুকোজ মাত্রা প্রদর্শিত হবে।
রোগী চাইলে তারিখ ও সময়সহ ফলাফলটি নোট করে রাখতে পারেন। ব্যবহৃত সুই ও স্ট্রিপ নির্দিষ্টভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং যন্ত্রটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি।
গ্লুকোমিটার বনাম ল্যাবরেটরি টেস্ট
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—ঘরে ব্যবহৃত গ্লুকোমিটার দিয়ে মাপা গ্লুকোজের পরিমাণ ও ল্যাবরেটরির রিপোর্টে পার্থক্য হয় কিনা। আসলে, গ্লুকোমিটার কৈশিক (ফিঙ্গারপ্রিক) রক্ত ব্যবহার করে আর ল্যাব পরীক্ষায় নেওয়া হয় শিরার রক্তের প্লাজমা। অতীতে এতে ১০ শতাংশের মতো পার্থক্য দেখা গেলেও, নতুন প্রযুক্তির গ্লুকোমিটারগুলো এই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।
চিকিৎসকের কাছে গেলে কী করবেন?
নিয়মিত গ্লুকোজ রেকর্ড রাখা ও চিকিৎসকের সঙ্গে সেই রেকর্ড শেয়ার করা চিকিৎসার জন্য সহায়ক। চাইলে গ্লুকোমিটার বা রেকর্ড সংবলিত ডায়েরি সঙ্গে নিতে পারেন।
উপসংহার
ডায়াবেটিস একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ—শর্ত হলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও যত্ন। প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীরই উচিত একটি মানসম্মত গ্লুকোমিটার সংগ্রহ করা এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা। এতে করে হঠাৎ জটিলতা এড়ানো যেমন সম্ভব, তেমনি নিজেকে সুস্থ রাখাও সহজ হবে।
মন্তব্য করুন