
বিশ্বে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের প্রায় ৯৮ শতাংশই তৈরি হয় তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। প্লাস্টিক উৎপাদনের ফলে প্রতি বছর নির্গত হয় প্রায় ২০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা রাশিয়ার বার্ষিক নিঃসরণের তুলনায়ও বেশি। এই তথ্য উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদনে।
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বড় বাধা তেলনির্ভর দেশগুলো
জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ রোধে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিকল্পনা চলছে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত ষষ্ঠ ও সম্ভবত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এতে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরবসহ কিছু তেলসমৃদ্ধ দেশ এবং প্লাস্টিক শিল্প সংশ্লিষ্ট শক্তিশালী লবিগুলো। তারা চুক্তিতে প্লাস্টিক উৎপাদনের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে।
অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ১০০টির বেশি দেশ এই চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং তারা প্লাস্টিক উৎপাদনে কঠোর সীমা আরোপের দাবি জানাচ্ছে।
পুনর্ব্যবহার নয়, চাই উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ
তেলনির্ভর দেশগুলো ও শিল্পপতিরা দাবি করছে, পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, উৎপাদন কমানোর প্রয়োজন নেই।
কিন্তু গবেষকরা বলছেন, অধিকাংশ প্লাস্টিক এমনভাবে তৈরি যে তা পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। রাসায়নিকভাবে জটিল এসব উপাদান কাগজ বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো সহজে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই শুধু পুনর্ব্যবহার নয়, বরং উৎপাদনের ওপর নিয়ন্ত্রণই একমাত্র কার্যকর উপায়।
সস্তার মোড়কে ভয়াবহ ব্যয়
অনেকেই প্লাস্টিককে ‘সস্তা’ ও সহজলভ্য হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এর পরোক্ষ ব্যয় অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিকে ব্যবহৃত কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক যেমন পিবিডিই, বিপিএ ও ডিইএইচপি ৩৮টি দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই ঝুঁকির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।
নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা
এই গবেষণা একটি ধারাবাহিক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের জন্য তথ্যভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান। প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও আইন বিশেষজ্ঞ মার্গারেট স্প্রিং বলেন, “এই বিশ্লেষণগুলো নিরপেক্ষ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে এবং সরকারের সব স্তরে কার্যকর নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা করবে।”
মন্তব্য করুন