
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরে একের পর এক অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠছে। যাত্রী সেবা, রুট ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের আচরণ—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নারিতা ফ্লাইট বন্ধ ও যাত্রী সংকট
ঢাকা-জাপানের নারিতা রুট চালুর সময় বাজার যাচাই করে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে গত ১ জুলাই থেকে রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুরুতে যাত্রী সংকট না থাকলেও প্রচারের অভাবে আগস্ট থেকে যাত্রী কমতে থাকে। যাত্রী বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়েই রুট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। একইভাবে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় ঢাকা-রোম রুটও সমস্যায় পড়েছে। রোমগামী ফ্লাইটে যাত্রীরা কাঁচা বা রান্না করা খাবার নিয়ে যাওয়ায় পৌঁছানোর আগেই পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নিষ্ক্রিয়তা
গত ১ মে ঢাকা-দুবাই ফ্লাইটে নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে এক চিফ পার্সারের বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আরও কয়েকজন নারী কর্মী একই ধরনের অভিযোগ করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চোরাচালান ও শৃঙ্খলাভঙ্গ
বিমানের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে ডিউটির বাইরে চোরাচালানের অভিযোগ পুরনো হলেও তা বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি এক কেবিন ক্রু অবৈধভাবে মোবাইল আনার সময় ধরা পড়েন এবং আরেক সিনিয়র ফ্লাইট পার্সার স্বর্ণ চোরাচালানকালে আটক হন। এছাড়া ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও কেবিন ক্রুরা প্রকাশ্যে তা লঙ্ঘন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা চলছে।
ত্রুটি ও নিরাপত্তা বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিমানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উড্ডয়নের আগে সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়াররা উড়োজাহাজ পরীক্ষা করেন এবং ত্রুটি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হয়। সাম্প্রতিক কিছু ছোটখাটো ত্রুটি বেশি আলোচনায় এলেও যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মন্তব্য করুন