
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
বৃদ্ধ বয়সে যখন অন্যরা সন্তান-সন্ততির ভরসায় দিন কাটান, তখন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পাগলাটারী গ্রামের মুস্তাকিম দম্পতিকে, মুস্তাকিন (৭৩)ও স্ত্রী সকিনা বেগম (৬৮)গরুর বদলে নিজের শরীর দিয়ে ঘানি টেনে সংসার চালাতে হচ্ছে।
অসুস্থ দেহ, বয়সের ভার ও ন্যূনতম আয়ের সীমাবদ্ধতা—সবকিছুর মাঝেই তারা প্রতিদিন নতুন করে লড়াই শুরু করেন। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘানি টেনে দিনে মাত্র সোয়া লিটার সরিষার তেল ও কিছু খৈল উৎপাদন করেন। তেল-খৈল বিক্রি করে যা আয় হয়, তাতে কোনোরকমে সংসারের চাকা ঘোরে। তাদের দৈনিক গড় আয় মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
মুস্তাকিম দম্পতির সংসারে তিন ছেলে ও চার মেয়ে। কিন্তু সন্তানরা আশীর্বাদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দুই ছেলে প্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন। অন্যদিকে তালাকপ্রাপ্ত দুই মেয়ে আবার বাবার সংসারে ফিরে আসায় অভাবের চাপ বেড়েছে বহুগুণে।
কাঁপা হাতে ঘানি টেনে হাঁপাতে হাঁপাতে মুস্তাকিম বলেন,
“গরুর জায়গায় এখন আমি নিজেই ঘানি টানি। সমাজসেবা অফিস থেকে একবার গরু সহায়তা পেয়েছিলাম, কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিক্রি করতে হয়। আরেকটি গরু মেয়ে বিয়ের সময় যৌতুক দিতে গিয়ে দিতে হয়েছে। এখন খেয়ে না খেয়েই কোনোমতে বেঁচে আছি।”
বৃদ্ধ এই দম্পতির সামান্য পৈত্রিক ভিটায় জোড়াতালির টিনের ছাপড়ায় একমাত্র জীবিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ঘানি। বয়সের ভারে জর্জরিত হয়েও শেষ বয়সে একটু শান্তি বা নিশ্চিন্ততার ছায়া নেই তাদের জীবনে।
মানবিক সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেলে হয়তো তারা শেষ জীবনে স্বস্তির কিছু দিন কাটাতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিতম সাহা জানান, “ইতিপূর্বে সমাজসেবা অফিস ও স্থানীয়ভাবে তাকে দুটি গরু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও সরেজমিনে গিয়ে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
মন্তব্য করুন