
নিজস্ব প্রকিবেদক নীরা:
একজন কৃষকের সন্তান ও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তানের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়—এমন মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও জুলাই-২৪ পরবর্তী ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, কৃষকের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, আবার শিক্ষকের সন্তান হওয়াও বাড়তি কোনো গৌরব বহন করে না। মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজে সুযোগের ভিত্তিতে নয়—যোগ্যতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করা উচিত।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের সন্তান রাষ্ট্রের সব সুযোগ পাবে অথচ একজন কৃষকের সন্তান বঞ্চিত থাকবে—এ ধরনের বাস্তবতা সমাজকে পিছিয়ে দেয়। এই বৈষম্য দূর না হলে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ধীরে ধীরে একটি বড় ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে। শিক্ষার লক্ষ্য এখন অনেক ক্ষেত্রে কেবল বাজারের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা, সচেতনতা ও মানবিক বোধ গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে চায়, তাহলে কৃষক ও শিক্ষকের সন্তানের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও মানে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। সুশিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
সেমিনারে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক এবং রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন।
মন্তব্য করুন