
লেখক আতাউল গনি ওসমানী:
একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি গড়ে ওঠে শিক্ষিত, সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে। সেই ভিত্তি নির্মাণের সূচনা হয় প্রাথমিক শিক্ষার স্তর থেকে। কিন্তু দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এখনও অনেক শিশুর শিক্ষাজীবনের বড় প্রতিবন্ধক। ক্ষুধার্ত শিশুর পক্ষে পাঠে মনোযোগ দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনি অপুষ্টি তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতায় সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু শিশুদের ক্ষুধা নিবারণই নয়, বরং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার হার হ্রাস এবং শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ বৃদ্ধির মতো ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিবারের জন্য এ কর্মসূচি শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিশুর মেধা বিকাশের সঙ্গে সুষম পুষ্টির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হলে শিশুর স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শ্রেণিকক্ষে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ যেমন বাড়ে, তেমনি শিক্ষার ফলাফলও উন্নত হয়। অর্থাৎ, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুধু খাদ্য বিতরণ নয়; এটি ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কার্যকর বিনিয়োগ।
এ প্রসঙ্গে মোঃ আতাউল গনি ওসমানী, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী বলেন, “ক্ষুধামুক্ত ও পুষ্টিসম্পন্ন শিশুই একটি সমৃদ্ধ জাতির ভিত্তি। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির সুফল শতভাগ নিশ্চিত করতে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা, নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।”
শুধু শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, এই কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে সমতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চাও গড়ে তোলে। একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বিভেদ কমে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়, যা একটি মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ মানেই দেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। তাই স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত, টেকসই ও কার্যকর করা সময়ের দাবি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে এ কর্মসূচি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একটি সুস্থ, মেধাবী ও দক্ষ প্রজন্মই হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।
লেখক:
মোঃ আতাউল গনি ওসমানী
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী
মন্তব্য করুন