প্রধান সংবাদ
নিজস্ব প্রতিনিধি, নীরা
৩১ জুলাই ২০২৫, ২:৫৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয়: হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ, যা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মাঝে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ও আমানতকারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড এর নেওয়া ৭১০ কোটি টাকার মধ্যে ৫৮৭ কোটি টাকাই খেলাপি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড এর মোট ১,১৯৮ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৬৯৯ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে।

এছাড়া একাধিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সানস্টার বিজনেস লিমিটেড – ৬৭৫ কোটি টাকা

ফারইস্ট বিজনেস লিমিটেড – ৬৭৪ কোটি টাকা

কসমস কমোডিটিজ লিমিটেড – ৬৭২ কোটি টাকা

গ্র্যান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ – ৬৬৯ কোটি টাকা

বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড – ৬৬২ কোটি টাকা

সিদ্দিক ট্রেডার্স – ৬৪৬ কোটি টাকা

ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড – ৬২৮ কোটি টাকা

মাদারীপুর স্পিনিং মিলস লিমিটেড – ৬১৮ কোটি টাকা

এহসান স্ট্রিল রি-রোলিং মিলস – ৬০৬ কোটি টাকা

আর্দেন্ট সিস্টেমস – ৫৮৩ কোটি টাকা

বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১,৩০৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করলেও এর মধ্যে ৬২৯ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে। কিন্তু সরকারের পতনের পর অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, ফলে ঋণগুলো খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, “খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যাংকগুলো মূলধন সংকটে পড়ছে। এতে আমানতকারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, এবং নতুন উদ্যোক্তারা যথাযথ অর্থায়ন পাচ্ছেন না। এই সমস্যা সমাধানে তিনটি বিষয় জরুরি: সম্পদের জবাবদিহি, ঋণ অনুমোদনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায়।”

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা গভীর সংকটে নিপতিত হতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নীলফামারীতে ‘ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি’ অর্জনকারী ২৬৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার উপর সন্ত্রাসী হামলা-মব সৃষ্টির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতী

নীলফামারীতে ঈদে সড়ক পথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ

হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম নিয়ে সেমিনার

মিরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সৈয়দপুরের বিমানবাহিনীর সদস্য অন্যন্যা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে নির্দেশনা

নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত, সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য এক নারীকে সম্মাননা প্রদান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত, পুরস্কৃত চার কিশোরী

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি বরকতউল্লা বুলু, ১৭ জন নির্বাচিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় বিদেশি ভাষা শেখার আহ্বান তৌহিদ হোসেনের

১০

শিক্ষককে পিটিয়ে জখম- প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা

১১

সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদারে দেবীগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের ইফতার মাহফিল

১২

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‍্যাংকিং চালুর উদ্যোগ, মানোন্নয়নে জোর সরকারের

১৩

গ্রাহকদের তেল প্রদানে কারচুপি,  জরিমানা ৫০ হাজার  টাকা

১৪

টানা চারদিন পর সোনার দাম কমেছে

১৫

১৬

নীলফামারীতে দারিদ্র বিমোচনে ‘যাকাতের ভূমিকা ও তাৎপর্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৭

ঈদে ১১২টি কোচ যুক্ত করা হচ্ছে রেলে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চলছে মেরামত

১৮

নীলফামারীর ডোমারে মুড়ির কারখানায় নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ও শিল্প লবণ জব্দ

১৯

ফিতরার হার নির্ধারণ: জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা

২০