
দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জনগণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখে একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার ও প্রত্যাশার বিজয় ছিনিয়ে আনে। ছাত্র-জনতার দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতিতে গঠিত হয় নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আর সেই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষিত হলো জনগণের আকাঙ্ক্ষার ঘোষণা।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও বৈষম্যমূলক কোটানীতির কারণে ছাত্র ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিরোধী দল ও সংগঠনের ওপর লাগাতার নিপীড়ন এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বর্বর দমন-পীড়নের ফলেই দেশজুড়ে গড়ে ওঠে ব্যাপক গণবিক্ষোভ। এই আন্দোলন পরিণত হয় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে।
ঘোষণায় জানানো হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে জনগণের চূড়ান্ত গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।
ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছে। আইনের শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েই ভবিষ্যৎ নির্বাচনে গঠিত সরকার একটি সংস্কারকৃত গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠা করবে বলে জনগণ প্রত্যাশা করছে।
এছাড়া, গণঅভ্যুত্থন চলাকালে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণা করে তাঁদের পরিবার ও আহতদের প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা এবং সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
ঘোষণাপত্রের শেষাংশে জানানো হয়, এই ঐতিহাসিক ঘটনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং এটি ভবিষ্যৎ সংবিধানে সংযুক্ত থাকবে—যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে, কীভাবে জনগণের ঐক্য, প্রতিবাদ ও প্রত্যয় একটি নতুন রাষ্ট্রীয় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
মন্তব্য করুন