
প্রতি বছর প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে। সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন—প্লাস্টিকের প্রকৃত খরচ অত্যন্ত চড়া। স্বাস্থ্যবিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেট–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু প্লাস্টিক দূষণজনিত রোগের চিকিৎসায় বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যয় ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পর থেকে প্লাস্টিক উৎপাদন বেড়েছে ২০০ গুণ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৬০ সালের মধ্যে তা তিনগুণে পৌঁছাবে। অথচ প্লাস্টিক বর্জ্যের মাত্র ১০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য; বাকি অংশ ভূমি ও জলাশয়ে জমে থেকে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৮ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে—যার প্রভাব পৌঁছে গেছে সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে হিমালয়ের চূড়া পর্যন্ত। এমনকি হিমালয়ের মেঘেও পাওয়া গেছে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এককালীন ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক—যেমন পানির বোতল, ওয়ান-টাইম কাপ বা প্লেট—সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ। এগুলোর বেশিরভাগই পুনর্ব্যবহার সম্ভব নয়, ফলে খোলা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে মশাবাহিত ও পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি করে। প্লাস্টিকে ভরা জলাশয় পরিষ্কার করাও অত্যন্ত কঠিন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের প্রায় ৯৮ শতাংশই তৈরি হয় জীবাশ্ম জ্বালানি, গ্যাস বা কয়লা থেকে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ২ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। এছাড়া, অনবায়নযোগ্য প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেলায় বায়ুদূষণ আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত ১৬ হাজারেরও বেশি রাসায়নিকের কিছু সরাসরি মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে—বিশেষ করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে।
গবেষকরা সতর্ক করছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে গর্ভপাত, অকালে জন্ম, জন্মগত ত্রুটি, শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতা এমনকি ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্লাস্টিকে থাকা পিবিডিই, বিপিএ ও ডিইএইচপি নামের তিনটি উপাদানকে বিশেষভাবে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পূর্ণ প্রভাব এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবুও এর ঝুঁকি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এখনই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংকট ডেকে আনবে।
মন্তব্য করুন