
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর এলাকায় ব্যাপক পাথর লুটপাটের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো পুনরায় সাদা পাথরে প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এসব পাথর ভোলাগঞ্জ ঘাট থেকে নৌকায় করে সাদা পাথর এলাকায় ফেলা হচ্ছে। অভিযান চলাকালে প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করে ৭০টির বেশি ট্রাকে থাকা পাথর জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাথরের মধ্যে কিছু নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা থেকেও শনাক্ত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১২ আগস্ট রাতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ভিডিও থেকে, যেখানে শতাধিক ট্রাকে করে সাদা পাথর সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। পরদিন দুদক ও জেলা প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নেয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শন করে জানান, অবৈধভাবে পাথর সরানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা চুরি হওয়া সব পাথর উদ্ধার করে আবার প্রতিস্থাপন করব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায়ও অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে প্রশাসন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, পাথর চুরি ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাদা পাথর ও জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন