
আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় যোগ হলো বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। ভরা গ্যালারিতে অশ্রুসিক্ত উল্লাস, হাততালি আর ভালোবাসার আবহে দেশের মাটিতে শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ খেললেন লিওনেল মেসি।
অধিনায়ক হিসেবে মেসির মাঠে প্রবেশ ছিল একেবারে সিনেমার মতো—সন্তানদের হাত ধরে হাঁটা, সমর্থকদের টানা করতালি আর সবার চোখে আবেগের ঝিলিক। ম্যাচটিও রঙিন করলেন তিনি—দুটি গোল করে এবং আরও কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়ে। যদিও একটি দারুণ চিপ শটে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তবে অফসাইডের কারণে সেটি গণনায় আসেনি।
প্রথমার্ধে জুলিয়ান আলভারেজের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্টিনেজের হেডে আসে দ্বিতীয় গোল। কিছুক্ষণ পর থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে বোঝাপড়ায় মেসির দ্বিতীয় গোল—স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–০ তে।
ম্যাচ শেষে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি মেসি। পাশে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক কিছু পেয়েছি, কিন্তু এই অনুভূতি একেবারেই আলাদা।”
নিজের ক্যারিয়ারের নানা সমালোচনা ও সংগ্রামের কথাও স্মরণ করলেন মেসি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—এটাই দেশের মাটিতে তার শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ।
বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তির ঝুলিতে কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, কোপা ইউএসএ আর কাতারের বিশ্বকাপ শিরোপা আগেই যুক্ত ছিল। এবার যোগ হলো মাতৃভূমির মাঠে বিদায়ী রাতের অবিস্মরণীয় স্মৃতি।
মনুমেন্টালের সেই বিশেষ রাত শুধু একটি জয় ছিল না—ছিল এক কিংবদন্তির আবেগঘন বিদায়।
মন্তব্য করুন