
নিজস্ব প্রতিবেদক নীরা :
শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুস। দূষণ, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ফুসফুসজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে সঠিক খাবার ও কিছু অভ্যাস মেনে চললে ফুসফুস দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপকারী বাদাম ফুসফুসের জন্য
সব ধরনের বাদাম সমান উপকারি নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাজিল বাদাম, আখরোট, হ্যাজেলনাট ও কাঠবাদাম (Almond) ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এসব বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুসের কোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে পিস্টাচিও, কাজু ও চেস্টনাটে তুলনামূলকভাবে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকায় এগুলো নিয়মিত অতিরিক্ত খাওয়া ফুসফুসের জন্য ততটা উপকারী নয়।
জলপাই তেলের বিশেষ ভূমিকা
অলিভ অয়েলে থাকা ভিটামিন ই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি প্রদাহ কমিয়ে শ্বাসতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানোলা বা সয়াবিন তেলের তুলনায় জলপাই তেল ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি কার্যকর।
বেরি ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শক্তি
ব্লুবেরি, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি ও অন্যান্য বেরি ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এগুলো ফুসফুসকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর খাবার
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসেসড মাংস (যেমন—সসেজ, সালামি, প্যাকেটজাত মাংস) নিয়মিত খেলে COPDসহ দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মিত জীবনধারা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
খাদ্যের বাইরে যা করলে উপকার পাবেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খাবার নয়—শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুস সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যায়ামে ডায়াফ্রাম ও শ্বাসতন্ত্রের পেশি শক্ত হয়, ফলে—
শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে
হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট কমে
সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষরাও নিয়মিত এই ব্যায়াম করলে স্ট্যামিনা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারেন।
সুস্থ ফুসফুসের জন্য দৈনন্দিন পরামর্শ
ফুসফুস ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন—
চর্বিযুক্ত মাছ, আপেল, খুবানি, ব্রোকলি, পোল্ট্রি, স্বাস্থ্যকর বাদাম, জলপাই তেল ও বেরি ফল।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
ফুসফুস সুস্থ থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয়, সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম।
মন্তব্য করুন