
পঞ্চগড় প্রতিনিধি-
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বৈদ্যনাথ রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
শুক্রবার ভুক্তভোগী এক শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলও করেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট বৈরাগীপাড়া এলাকার রামচরণ রায়ের ছেলে। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপন করলেও পরে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বৈদ্যনাথ রায় প্রতিবেশী এক হিন্দু ও এক মুসলিম শিশুকে পৃথকভাবে লটকনের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকালে এক শিশুকে লটকন দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি।
ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, দীর্ঘ সময় মেয়েকে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন শিশু জানান, বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে গেছেন। প্রথমবার খুঁজে না পেলেও দ্বিতীয়বার গেলে অভিযুক্তের ভাতিজা জানায়, শিশুটিকে টয়লেটের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, ঘটনার সময় বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তবে পরদিন সকালে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারায় বিকালে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের কাছে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানিয়া জাহান সুকন্যা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যৌন নিপীড়নের আলামত পান। পরে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এক প্রতিবেশী জানান, অভিযুক্তের ভাতিজাসহ কয়েকজন শিশু ঘটনা দেখে ফেললে বৈদ্যনাথ প্রথমে তাদের টাকার প্রলোভন দেন। পরে তারা রাজি না হলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এরও এক সপ্তাহ আগে ২ জুলাই একই এলাকার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একই কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বৈদ্যনাথ। ওই সময় শিশুটির মা মেয়েকে খুঁজতে শুরু করলে তিনি ছেড়ে দেন।
সর্বশেষ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শুক্রবার দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে বোদা এলাকায় বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে বৈদ্যনাথ রায়কে গ্রেপ্তার করে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মূসা বলেন, “অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
মন্তব্য করুন