
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতির প্রভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক ক্রেতারা ধীরে ধীরে নয়াদিল্লি, ইসলামাবাদ ও বেইজিং থেকে মুখ ফিরিয়ে এখন লাল-সবুজের পতাকার দিকে ঝুঁকছেন। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতারা অর্ডার নিয়ে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন, ফলে পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ দ্রুত বাড়ছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, চলতি আগস্টের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে সেপ্টেম্বরে ক্রয়াদেশ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে ক্রয়াদেশ বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই মোট রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ শতাংশ। ইপিবির তথ্য বলছে, জুলাই মাসে কেবল পোশাক খাত থেকেই রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, অর্ডার গ্রহণ ও সময়মতো শিপমেন্ট নিশ্চিত করা গেলে সেপ্টেম্বর শেষে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৩০–৩৫ শতাংশ কিংবা তারও বেশি হতে পারে। এমন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আট মাসের মধ্যেই রপ্তানির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার সুযোগ তৈরি হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, চীনের শ্রমিক সংকট এবং ভারতের ওপর হঠাৎ আরোপিত অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হয়ে এসেছে। তিনি আশাবাদী, বর্তমান পরিস্থিতি কাজে লাগাতে পারলে চলতি অর্থবছরে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ৪০–৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ব্যাংকিং খাতের চাপ, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট বিনিয়োগ ও উৎপাদন প্রবাহকে এখনো কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, সাধারণত জুলাই-সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কম থাকে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। শুধু বড় নয়, ছোট ক্রেতারাও বাংলাদেশে অর্ডার দিচ্ছেন। এতে রপ্তানিতে ইতিবাচক অগ্রগতি এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাড়তি অর্ডার নিলেও কোনোভাবেই মূল্যছাড়ে পণ্য বিক্রি করা উচিত নয়। এতে স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি আয় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য সরকারের উদ্যোগে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি বাংলাদেশের পোশাক খাতে এক অভাবনীয় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এই সুযোগকে স্থায়ী সাফল্যে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন