
নিজস্ব প্রতিবেদক,নীরা:
ভূমিকম্প—পৃথিবীর অন্যতম ধ্বংসাত্মক ও আতঙ্কজনক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত হলেও এখনো পর্যন্ত ভূমিকম্প পূর্বাভাস বা এর ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে নিশ্চিত কোনো পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে প্রতি বছরই প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর শোনা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) গত ১০০ বছরে রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ মাত্রায় আঘাত হানা শীর্ষ ১০ ভূমিকম্পের তালিকা প্রকাশ করেছে।
১. চিলি, ১৯৬০ – মাত্রা ৯.৫
১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও অঞ্চলে ঘটে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভয়াবহ এই কম্পনে প্রাণ হারান ১ হাজার ৬৫৫ জন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। বিপর্যয়ের মাত্রা ছিল নজিরবিহীন।
২. আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৬৪ – মাত্রা ৯.২
১৯৬৪ সালের এই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে মারা যান কমপক্ষে ১৩০ জন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল কয়েকশ’ কোটি ডলার।
৩. সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া, ২০০৪ – মাত্রা ৯.১
২০০৪ সালের সুনামি-সৃষ্টিকারী এ ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত হন ১০ লাখের বেশি মানুষ। ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে এটি এখনও স্মরণীয়।
৪. হোক্কাইডো, জাপান, ২০১১ – মাত্রা ৯.১
২০১১ সালের ভয়ংকর ভূমিকম্প ও সুনামিতে জাপানে মৃত্যু হয় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের। বাস্তুচ্যুত হন ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের সূত্রপাতও ঘটে এ সময়।
৫. কামচাটকা, রাশিয়া, ১৯৫২ – মাত্রা ৯.০
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের অভিঘাত হাওয়াই পর্যন্ত পৌঁছায়। বড় ধরনের সুনামি হলেও প্রাণহানির কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
৬. চিলি, ২০১০ – মাত্রা ৮.৮
চিলির কিউরিহিউ অঞ্চলে ২০১০ সালের ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ৫২৩ জনের। ধসে পড়ে ৩ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর।
৭. ইকুয়েডর, ১৯০৬ – মাত্রা ৮.৭
ইকুয়েডরের এসমেরালদাস অঞ্চলে সংঘটিত এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ।
৮. র্যাট দ্বীপ, আলাস্কা, ১৯৬৫ – মাত্রা ৮.৭
আলাস্কার জনবসতিহীন র্যাট দ্বীপে ঘটে শক্তিশালী এ কম্পন। জনবসতি না থাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
৯. অরুণাচল–আসাম–তিব্বত অঞ্চল, ভারত, ১৯৫০ – মাত্রা ৮.৬
‘আসাম–তিব্বত ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত এই কম্পনে প্রাণ হারান ৭৮০ জন। বিশাল এলাকাজুড়ে ভূমিধস ও ভূপৃষ্ঠ ফাটলের ঘটনা ঘটে।
১০. সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া, ২০১২ – মাত্রা ৮.৬
২০১২ সালে সুমাত্রায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে সামগ্রিক ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও কয়েকজন মানুষের মৃত্যু হয় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে।
মন্তব্য করুন