
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে নেমে এসেছে গভীর শোক। অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আকশু ফার্নান্দো আর নেই। দীর্ঘ সাত বছর কোমায় থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ফার্নান্দো। দক্ষিণ কলম্বোর মাউন্ট লাভিনিয়া সমুদ্রসৈকতে অনুশীলন শেষে ফেরার পথে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে টানা সাত বছর লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এই ক্রিকেটার।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে একজন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে ছিলেন আকশু ফার্নান্দো। দুর্ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ২৭ বছর। রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি নিজের প্রথম সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছিলেন। অফ স্পিন বোলিংয়েও ছিলেন কার্যকর।
পরিসংখ্যানের দিক থেকেও ফার্নান্দোর ক্যারিয়ার ছিল আশাব্যঞ্জক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৯ ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ১,০৬৭ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৫ ম্যাচে করেন ২৯৮ রান এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছেন ১৯টি ম্যাচ। সিনিয়র পর্যায়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস।
২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা দলের হয়ে অংশ নেন আকশু ফার্নান্দো। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই উইকেটের হারের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছিলেন তিনি। ওই দলে তার সতীর্থ ছিলেন বর্তমান জাতীয় দলের পরিচিত মুখ দানুস্কা গুনাথিলাকা ও ভানুকা রাজাপাকসে।
ফার্নান্দোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার ও রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের সিনিয়র প্রশাসক রোশান আবেসিংহে। তিনি বলেন,
“আকশু ছিল একজন অসাধারণ তরুণ ক্রিকেটার। একটি নির্মম দুর্ঘটনা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ খুব অল্প সময়েই থামিয়ে দেয়। স্কুল ক্রিকেট ও রাগামা ক্লাবের জন্য সে ছিল অমূল্য সম্পদ। আজকের দিনটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তাকে আজীবন স্মরণ করব।”
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে প্রতিভাবান এক নাম হারিয়ে যাওয়ায় ক্রিকেটাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন