
ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের বড় অঙ্কের লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক সৌদি প্রবাসীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নীলফামারী থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৫ নীলফামারী থানায় এই প্রতারণার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ সুপার জনাব এ. এফ. এম. তারিক হোসেন খানের দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমেদ (সার্কেল, নীলফামারী)-এর নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে।
বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও অপরাধ গোয়েন্দা তথ্য (Criminal Intelligence) যাচাই-বাছাই করে চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (১৯ জুলাই) চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের ইটাপীর, কামারপাড়া, বাবরীঝাড় ও চড়াইখোলা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিমকার্ড, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বিকাশ একাউন্ট পরিচালনার মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা:
১। মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২৫), পিতা-মৃত আফোদ্দিন, গ্রাম- ইটাপীর ডাঙ্গাপাড়া, ইউপি-চাপড়া সরমজানি, নীলফামারী।
২। মোঃ মমিন উদ্দিন (২২), পিতা- মোঃ হাসিনুর রহমান, গ্রাম- কেশুরগাড়ী কামারপাড়া, ইউপি-চাপড়া সরমজানি, নীলফামারী।
৩। মোঃ ফরিদ (২৪), পিতা- মোঃ রহিদুল ইসলাম, গ্রাম- ফকিরপাড়া, ইউপি-বাবরীঝাড়, নীলফামারী সদর।
৪। মোঃ মশিয়ার রহমান (৩৫), পিতা- মোঃ শফিয়ার রহমান, গ্রাম- ইটাপীর, নীলফামারী।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি ভূয়া রেজিস্ট্রেশন করা সিমকার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্ট পরিচালনা করত। ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিজেদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয়ে লোন প্রদান সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
এছাড়া, তাদের সঙ্গে জড়িত অবৈধ সিম সরবরাহকারী ও ফেসবুক বুস্টিং চক্রের সদস্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটির প্রতারণার সাথে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন